সরকারের নিরপেক্ষতার স্বার্থে বিতর্কিতদের অপসারণ করা উচিত - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সরকারের নিরপেক্ষতার স্বার্থে বিতর্কিতদের অপসারণ করা উচিত

সরকারের নিরপেক্ষতার স্বার্থে বিতর্কিতদের অপসারণ করা উচিত

Oplus_131072

বিএনপির পক্ষ থেকে দুজন উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি এবং এনসিপির পক্ষ থেকে তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিমত দিয়েছেন এই রাজনীতিক।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির প্রত্যক্ষ সদস্য না হলেও এটা ওপেন সিক্রেট যে সে রকম দুজন এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আছেন। তাঁরা সরকারকে প্রভাবিত করছেন—এ রকম কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁরা নিজেরা হয়তো একটা সুবিধা নিতে চান। সেটা তাঁরা জানেন, কী সেই সুবিধা। তাই আমরা উপদেষ্টা পরিষদের যাঁদের কর্মকাণ্ড সরকারকে বিতর্কিত করেছে বা নিরাপত্তা নষ্ট করছে, সেটা আমরা বর্ণনা করেছি। তাঁদের অপসারণ করাটা সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে উচিত।
এখন এনসিপি আরও কয়েকজনের (উপদেষ্টা) পদত্যাগ কেন চায়, কীভাবে চায়, সেটা তাদের বক্তব্যে তারা বলবে। আমরা এই সরকারের কোনো অংশ নই। এখন কেউ কিছু দাবি করল, তার পরিপ্রেক্ষিতে সে দাবির ন্যায্যতা-অন্যায্যতা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তাদের দাবির ন্যায্যতা তাদেরই প্রমাণ করতে হবে।
এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে এখনো নিবন্ধিত নয়। নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বিদ্যমান আইনে সার্চ কমিটি গঠন করে। সেই সার্চ কমিটিতে সবাইকে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।
আমরাও নাম দিয়েছি, তারাও (এনসিপি) দিয়েছে। অনেকটা আইন মেনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে এ পর্যন্ত কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। যে–ই নির্বাচন কমিশন ইশরাক হোসেনের বিষয়ে আদালতের রায় অনুসারে গেজেট নোটিফিকেশন করল, তখনই তারা কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা শুরু করল এবং ব্লেমটা আমাদের ওপর দিয়েছে, সেটি সঠিক নয়। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা (এনসিপি) তাদের কৌশল এবং নীতি–আদর্শমতো তাদের কর্মসূচি করবে; কিন্তু একটা বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে, সেটাকে যেন আমরা বিনষ্ট না করি।একই সঙ্গে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অতি দ্রুত যাতে একটা রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, সেদিকে আমরা যাই। এ জন্যই আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বারবার আহ্বান করেছি, নির্বাচনের একটা রোডম্যাপ দিন। একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে ওনার এত দ্বিধাগ্রস্ত হতে হবে কেন?সেনাবাহিনীর প্রধান ওনার একটি অফিশিয়াল সমাবেশে কিছু কথা বলেছেন। যেটা ওনার এখতিয়ারের মধ্যে আছে, আর্মি অ্যাক্ট অনুসারে সেনাপ্রধান ওনার অফিসারদের অ্যাড্রেস করতে পারেন যখন প্রয়োজন মনে করেন। তিনি যা বলেছেন, সেটা আমাদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। সেনাপ্রধান হয়তো ওনার পক্ষ থেকে বলেছেন যে ডিসেম্বরের ভেতরে নির্বাচন করা উচিত। এটা সঠিকভাবেই বলেছেন। আরও অন্যান্য বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন যেমন, করিডর—এটা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে তো উনি কথা বলতেই পারেন। উনাদের মতামতটা নেওয়া আগেই উচিত ছিল। এখন খলিলুর রহমান নামে যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ হয়েছেন, ওনার বিভিন্ন পদক্ষেপে, কর্মকাণ্ডে জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। আমরা বলেছি, এ বিষয়টা একটা নির্বাচিত সরকারের, এটা কোনো অস্থায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ইস্যু হতে পারে না। বন্দর নিয়ে বলেছি, এটাও জাতীয় স্বার্থের বিষয়। এখন এই বক্তব্যগুলো যদি সেনাপ্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়, সেটা মিলে যেতে পারে। এগুলো সবই জাতীয় স্বার্থ।
এখন সারা জাতির জন্য প্রয়োজন হচ্ছে দেশে যাতে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকে। সেটার লক্ষ্যে যদি রোডম্যাপ প্রদান করেন, তাহলে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পরিচালনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সর্বক্ষেত্রে একটা আস্থা ফিরে আসবে।
আমরা চাই, অবিলম্বে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সুস্পষ্টভাবে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা রোডম্যাপ প্রদান করবেন, জাতিকে আশ্বস্ত করবেন এবং দেশে স্থিতিশীলতা আনবেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d